ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৌলতপুরে চা বিক্রেতা হত্যা মামলার আসামি মন্টু গ্রেপ্তার : হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৩ Time View
Print

মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চা বিক্রেতা সামিরুল শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মন্টু (৫০) কে গ্রেপ্তার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। একই সঙ্গে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।জাতীয় দৈনিক মাতৃ জগত সংবাদ সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘাতক মন্টুর নাম ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ হলে পুলিশ তদন্ত করে হত্যাকান্ডে মন্টুর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর গ্রামে মন্টুর শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে দৌলতপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধর্মদহ এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত সামিরুল শাহের ছেলে আবু সাঈদ শুক্রবার দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মন্টুকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর আগে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন ধর্মদহ এলাকায় আদাবাড়িয়া ব্যাংগাড়ি-ধর্মদহ সড়কের পাশের একটি মাঠে বাঁশের মাচার ওপর থেকে সামিরুল শাহ (৬০)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের শরীর ও মুখে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। নিহত সামিরুল শাহ তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বিশারদ শাহের ছেলে। তিনি পেশায় একজন চা বিক্রেতা ছিলেন। নিহতের বড় ছেলে আবু সাঈদ ঘটনার দিন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি, তাঁর বাবা ও দুই মামা বড়গাংদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তারাগুনিয়া থানা মোড়ে একই এলাকার মন্টু (৫০) ফোন করে তাঁর বাবাকে দেখা করতে বলেন। ফোন পেয়ে তাঁর বাবা পরিবারের সদস্যদের বাড়ি যেতে বলে মন্টুর সঙ্গে তারাগুনিয়া থানা মোড়ে থেকে যান। এরপর থেকে তাঁর (বাবার) মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ও রাতে মন্টুর কাছে বাবার খোঁজ-খবর জানতে চাইলেও তিনি কোনো সঠিক তথ্য দেননি। শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে ধর্মদহ গ্রামের রাস্তার পাশের একটি বাঁশের মাচায় বাবার (সামিরুলের) মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, চা বিক্রেতা সামিরুল শাহ হত্যা মামলায় মন্টু নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি একটি পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত ও জিঞ্জাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে হত্যাকান্ডের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে অসামান্য অবদান রেখে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ‘বৃক্ষকন্যা’ মোসাম্মাৎ সাদিয়া আক্তার (ঈশা)

দৌলতপুরে চা বিক্রেতা হত্যা মামলার আসামি মন্টু গ্রেপ্তার : হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার

Update Time : ১২:০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
Print

মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চা বিক্রেতা সামিরুল শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মন্টু (৫০) কে গ্রেপ্তার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। একই সঙ্গে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।জাতীয় দৈনিক মাতৃ জগত সংবাদ সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘাতক মন্টুর নাম ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ হলে পুলিশ তদন্ত করে হত্যাকান্ডে মন্টুর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর গ্রামে মন্টুর শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে দৌলতপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধর্মদহ এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত সামিরুল শাহের ছেলে আবু সাঈদ শুক্রবার দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মন্টুকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর আগে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন ধর্মদহ এলাকায় আদাবাড়িয়া ব্যাংগাড়ি-ধর্মদহ সড়কের পাশের একটি মাঠে বাঁশের মাচার ওপর থেকে সামিরুল শাহ (৬০)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের শরীর ও মুখে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। নিহত সামিরুল শাহ তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বিশারদ শাহের ছেলে। তিনি পেশায় একজন চা বিক্রেতা ছিলেন। নিহতের বড় ছেলে আবু সাঈদ ঘটনার দিন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি, তাঁর বাবা ও দুই মামা বড়গাংদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তারাগুনিয়া থানা মোড়ে একই এলাকার মন্টু (৫০) ফোন করে তাঁর বাবাকে দেখা করতে বলেন। ফোন পেয়ে তাঁর বাবা পরিবারের সদস্যদের বাড়ি যেতে বলে মন্টুর সঙ্গে তারাগুনিয়া থানা মোড়ে থেকে যান। এরপর থেকে তাঁর (বাবার) মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ও রাতে মন্টুর কাছে বাবার খোঁজ-খবর জানতে চাইলেও তিনি কোনো সঠিক তথ্য দেননি। শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে ধর্মদহ গ্রামের রাস্তার পাশের একটি বাঁশের মাচায় বাবার (সামিরুলের) মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, চা বিক্রেতা সামিরুল শাহ হত্যা মামলায় মন্টু নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি একটি পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত ও জিঞ্জাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে হত্যাকান্ডের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।