
নওগাঁয় সুরের মূর্ছনা আর আবহমান বাংলার ধ্রুপদী সংগীতের আবহে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যা। “সারেগামা সংগীত ভুবন, নওগাঁ”-এর পরিচালনায় আয়োজিত এই ‘হারানো দিনের সংগীত সন্ধ্যা’ সুরপ্রেমীদের মনে এক অনন্য অনুভূতির সৃষ্টি করে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৪:০০ টা থেকে রাত ৯:৩০ টা পর্যন্ত নওগাঁ জেলা শহরের বইপট্টি (সাবেক জয় কালীর মোড়) এলাকার ‘হোটেল আয়োজন’-এর কমিউনিটি সেন্টারে জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনের সূচনা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা এবং যন্ত্রসংগীতের দিকনির্দেশনায় ছিলেন সংগীতাচার্য ও গুরু অপূর্ব কুমার দাস। তাঁর নির্দেশনায় ও সহশিল্পীদের বাদ্যযন্ত্রের মনমুগ্ধকর ঝংকারে অনুষ্ঠানটি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের গভীর আনন্দ দেয়। অনুষ্ঠানটি কেবল সংগীত পরিবেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা পরিণত হয়েছিল সংগীতের গুরু-শিষ্য, অভিভাবক এবং সংগীতপ্রিয় অগণিত মানুষের এক মিলনমেলায়। একের পর এক হারানো দিনের জনপ্রিয় গান ও সুরের আবহ শ্রোতাদের নস্টালজিক করে তোলে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে উপস্থিত সবার দৃষ্টি কাড়ে কোমলমতি শিশু শিল্পীরা। প্রতিভাবান শিশু শিল্পী ও নওগাঁ শাহীন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র পার্বন দেবনাথ তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলে, “গুরু অপূর্ব কুমার দাস স্যার অত্যন্ত যত্ন ও স্নেহের সাথে আমাদের সংগীত শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও অনুপ্রেরণার কারণেই আজ এত বড় একটি চমৎকার মঞ্চে সুন্দরভাবে পারফর্ম করতে পেরেছি। আমরা তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।” পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল আরেক কনিষ্ঠ শিশু শিল্পী, নওগাঁ ন্যাশনাল মডেল স্কুলের প্লে শ্রেণির ছাত্র অর্পণ মণ্ডল। বাবা, মা, মামা, মামি ও মামাতো ভাই-বোনদের নিয়ে সুরের ভুবনে উপস্থিত হতে পেরে উচ্ছ্বসিত অর্পণ জানায়, গুরু অপূর্ব কুমার দাসের প্রতি তার রয়েছে অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। এত সুন্দর ও আনন্দঘন একটি আয়োজনের অংশ হতে পেরে সে ভীষণ আনন্দিত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক ও সুধীজনেরা এমন আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুদের অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রেখে এমন শুদ্ধ ও হারানো দিনের সংগীতে চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা সত্যিই প্রশংসনীয়। রাত সাড়ে নয়টায় উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতাদের করতালির মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর এই আনন্দ সন্ধ্যার সমাপ্তি ঘটে মোস্তাসিন মামুন ; নওগাঁ
Reporter Name 


















