ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরের আগাম হাইব্রিড শিমের ফুলে ভরে উঠেছে বারইপাড়ার বিস্তীর্ণ মাঠ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৪ Time View
Print

পাবনা জেলা প্রতিনিধি:

পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন যেন এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহ। যশোরের আগাম হাইব্রিড জাতের শিমের গাছে গাছে ফুটেছে অসংখ্য সাদা ফুল। দূর থেকে তাকালেই মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে সাদা ফুলের চাদর বিছিয়ে আছে। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন শিমক্ষেতে। কৃষকদের চোখেও এখন ভালো ফলন ও লাভের স্বপ্ন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) সরেজমিনে বারইপাড়া গ্রামের শিমক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে সারিবদ্ধভাবে ছড়িয়ে রয়েছে যশোরের আগাম হাইব্রিড শিমের লতা। মাচাজুড়ে ফুটে থাকা ফুলের পাশাপাশি অনেক গাছে কচি শিমও ধরেছে। পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ গাছে পানি দিচ্ছেন, আবার কেউ রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে যশোরের আগাম হাইব্রিড শিমের আবাদ করেছেন। এ জমি চাষাবাদের জন্য প্রায় ৯ লাখ টাকা দিয়ে কট (বন্ধক) রাখা হয়েছে। জমি প্রস্তুত, মাচা নির্মাণ, সেচ, সার ও পরিচর্যাসহ প্রতিদিনই ক্ষেতে সময় দিতে হচ্ছে। তবে গাছের বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি আশাবাদী।

তিনি বলেন, “এখন গাছে প্রচুর ফুল এসেছে। ইতোমধ্যে শিম সংগ্রহও শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় আড়াই মণ শিম তোলা হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি শিম ২৪৫ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর ঠিক থাকলে সব ধরনের উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছি।”

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আগাম জাতের শিম হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা অনেক বেশি। মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ কম থাকায় দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তাই প্রতিবছরই এ অঞ্চলের অনেক কৃষক আগাম হাইব্রিড শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তবে সময়মতো পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা এ চাষের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, বারইপাড়ার এই শিমক্ষেত এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সকাল ও বিকেলে অনেকেই ফুলে ভরা শিমক্ষেত দেখতে আসছেন। কেউ স্মৃতিবন্দি করছেন মোবাইল ফোনে, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করছেন। ফলে শিমক্ষেতটি স্থানীয়ভাবে এক ধরনের দর্শনীয় স্থানেও পরিণত হয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, উন্নত জাতের বীজ, সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ, নিয়মিত সেচ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে আগাম হাইব্রিড শিম চাষে ভালো ফলনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য লাভ করা সম্ভব। বাজারে দাম অনুকূলে থাকলে এ ফসল কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে, ফুলে ফুলে ভরে ওঠা বারইপাড়ার এই আগাম হাইব্রিড শিমক্ষেত শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়, কৃষকের পরিশ্রম, আশা এবং সম্ভাবনারও এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শরীয়তপুর পুলিশ লাইন্সে উৎসবমুখর পরিবেশে সাঁতার প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

যশোরের আগাম হাইব্রিড শিমের ফুলে ভরে উঠেছে বারইপাড়ার বিস্তীর্ণ মাঠ

Update Time : ১২:৩৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Print

পাবনা জেলা প্রতিনিধি:

পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন যেন এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহ। যশোরের আগাম হাইব্রিড জাতের শিমের গাছে গাছে ফুটেছে অসংখ্য সাদা ফুল। দূর থেকে তাকালেই মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে সাদা ফুলের চাদর বিছিয়ে আছে। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন শিমক্ষেতে। কৃষকদের চোখেও এখন ভালো ফলন ও লাভের স্বপ্ন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) সরেজমিনে বারইপাড়া গ্রামের শিমক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে সারিবদ্ধভাবে ছড়িয়ে রয়েছে যশোরের আগাম হাইব্রিড শিমের লতা। মাচাজুড়ে ফুটে থাকা ফুলের পাশাপাশি অনেক গাছে কচি শিমও ধরেছে। পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ গাছে পানি দিচ্ছেন, আবার কেউ রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে যশোরের আগাম হাইব্রিড শিমের আবাদ করেছেন। এ জমি চাষাবাদের জন্য প্রায় ৯ লাখ টাকা দিয়ে কট (বন্ধক) রাখা হয়েছে। জমি প্রস্তুত, মাচা নির্মাণ, সেচ, সার ও পরিচর্যাসহ প্রতিদিনই ক্ষেতে সময় দিতে হচ্ছে। তবে গাছের বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি আশাবাদী।

তিনি বলেন, “এখন গাছে প্রচুর ফুল এসেছে। ইতোমধ্যে শিম সংগ্রহও শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় আড়াই মণ শিম তোলা হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি শিম ২৪৫ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর ঠিক থাকলে সব ধরনের উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছি।”

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আগাম জাতের শিম হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা অনেক বেশি। মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ কম থাকায় দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তাই প্রতিবছরই এ অঞ্চলের অনেক কৃষক আগাম হাইব্রিড শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তবে সময়মতো পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা এ চাষের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, বারইপাড়ার এই শিমক্ষেত এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সকাল ও বিকেলে অনেকেই ফুলে ভরা শিমক্ষেত দেখতে আসছেন। কেউ স্মৃতিবন্দি করছেন মোবাইল ফোনে, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করছেন। ফলে শিমক্ষেতটি স্থানীয়ভাবে এক ধরনের দর্শনীয় স্থানেও পরিণত হয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, উন্নত জাতের বীজ, সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ, নিয়মিত সেচ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে আগাম হাইব্রিড শিম চাষে ভালো ফলনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য লাভ করা সম্ভব। বাজারে দাম অনুকূলে থাকলে এ ফসল কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে, ফুলে ফুলে ভরে ওঠা বারইপাড়ার এই আগাম হাইব্রিড শিমক্ষেত শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়, কৃষকের পরিশ্রম, আশা এবং সম্ভাবনারও এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।