ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থী-যুবকদের বিরুদ্ধে মামলা: প্রতিবাদে মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • ৩৪ Time View
Print

মোঃ আতাউর রহমান মুকুল,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ও যুবকের বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং কথিত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে উপজেলার ১নং বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের গাজীর মোড় এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, উপজেলার ফলগাছা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কারবার ও মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে নিজেকে ‘সাধক’ পরিচয়দানকারী ফারুক সরকারের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এলাকার কয়েকজন শিক্ষার্থী ও যুবক মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করলে তাদের সঙ্গে ফারুকের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক পর্যায়ে মাদক বিক্রির সময় ফারুককে আটক করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ফারুক সরকার ৯ জন যুবকের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং মাদক প্রতিরোধে সক্রিয় শিক্ষার্থী ও যুবকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী তরুণদের হয়রানি করা হলে ভবিষ্যতে কেউ সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হবে না। তারা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনার উদঘাটন এবং অভিযুক্ত মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজমুল হুদা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. সামিউল ইসলাম, জহুরুলহাট হাজী এলাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বাদশা, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা শফিকুল ইসলাম শামীম, উপজেলা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি সামিউল ইসলাম, ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবক বিপ্লব মিয়াসহ অনেকে।
এদিকে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ফারুক সরকারকে গাঁজাসদৃশ পদার্থ সেবন করতে দেখা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে ফারুক সরকার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও নাকচ করেন।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু ইকবাল পাশা বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

‎কালিয়াকৈর শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ: উচ্চ শব্দে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

সুন্দরগঞ্জে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থী-যুবকদের বিরুদ্ধে মামলা: প্রতিবাদে মানববন্ধন

Update Time : ১১:০০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
Print

মোঃ আতাউর রহমান মুকুল,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ও যুবকের বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং কথিত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে উপজেলার ১নং বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের গাজীর মোড় এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, উপজেলার ফলগাছা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কারবার ও মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে নিজেকে ‘সাধক’ পরিচয়দানকারী ফারুক সরকারের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এলাকার কয়েকজন শিক্ষার্থী ও যুবক মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করলে তাদের সঙ্গে ফারুকের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক পর্যায়ে মাদক বিক্রির সময় ফারুককে আটক করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ফারুক সরকার ৯ জন যুবকের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং মাদক প্রতিরোধে সক্রিয় শিক্ষার্থী ও যুবকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী তরুণদের হয়রানি করা হলে ভবিষ্যতে কেউ সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হবে না। তারা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনার উদঘাটন এবং অভিযুক্ত মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজমুল হুদা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. সামিউল ইসলাম, জহুরুলহাট হাজী এলাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বাদশা, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা শফিকুল ইসলাম শামীম, উপজেলা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি সামিউল ইসলাম, ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবক বিপ্লব মিয়াসহ অনেকে।
এদিকে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ফারুক সরকারকে গাঁজাসদৃশ পদার্থ সেবন করতে দেখা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে ফারুক সরকার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও নাকচ করেন।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু ইকবাল পাশা বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।