ঢাকা ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষা নাকি শিক্ষার্থীর জীবন- রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার কোনটি?

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ১৭ Time View
Print

*প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু জনজীবনকেই বিপর্যস্ত করে না; এটি রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, মানবিকতা এবং জবাবদিহিকেও কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করায়। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। সাম্প্রতিক এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আবারও সেই মৌলিক প্রশ্নটিকে সামনে এনেছে- সংকটের সময় রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত: নির্ধারিত সময়সূচি, নাকি শিক্ষার্থীর জীবন ও নিরাপত্তা?*

বাংলাদেশে পাবলিক পরীক্ষা কেবল একটি শিক্ষাগত মূল্যায়ন নয়; এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের বহু বছরের পরিশ্রম, স্বপ্ন, প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যতের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি পরীক্ষার ফলাফল উচ্চশিক্ষায় ভর্তি, পেশাগত জীবন এবং ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। ফলে এই পরীক্ষা পরিচালনা কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি একই সঙ্গে মানবিক, নৈতিক এবং সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার বিষয়।

সম্প্রতি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা প্রশ্ন তুলেছেন- যখন কোথাও বন্যা, কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বা আংশিক ভেঙে পড়েছে, তখন দেশের সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ আদৌ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে কি?

শিক্ষার্থীদের দাবির মূল বিষয় ছিল তিনটি- দুর্যোগের কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ; ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা পুনর্বিবেচনা; এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এসব কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন, তবুও এগুলোকে কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এগুলো শিক্ষা প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থাহীনতারও একটি বহিঃপ্রকাশ।

অন্যদিকে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় পরীক্ষা গ্রহণে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও সরকার দাবি করেছে। একটি জাতীয় পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক তথ্যের ওপর নির্ভর করাই স্বাভাবিক। তবে এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি উঠে আসে- প্রশাসনিক মূল্যায়ন কি সব সময় মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা পুরোপুরি প্রতিফলিত করে?

বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এমন যে একই জেলার এক অংশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকলেও অন্য অংশ সম্পূর্ণ পানিবন্দী হয়ে যেতে পারে। কোনো কোনো পরীক্ষার্থীকে নৌকায়, ভ্যানে কিংবা কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়। কোথাও সেতু ভেঙে যায়, কোথাও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে জেলা বা উপজেলার গড় পরিস্থিতি একজন পরীক্ষার্থীর প্রকৃত দুর্ভোগকে প্রতিফলিত নাও করতে পারে। নীতিনির্ধারণে এই বাস্তবতাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সমান সুযোগের নীতি। পাবলিক পরীক্ষার মৌলিক দর্শন হলো, সব পরীক্ষার্থী যেন সমান পরিবেশে মূল্যায়নের সুযোগ পায়। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী যদি স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, আর অন্যজন কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রেই পৌঁছাতে না পারে, তাহলে সেই মূল্যায়ন কতটা ন্যায্য- এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতার নিশ্চয়তা দেয় এবং ৩১ অনুচ্ছেদ নাগরিকের আইনের আশ্রয় ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করে। যদিও পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে সংবিধানে আলাদা কোনো বিধান নেই, তবুও রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতিগত সিদ্ধান্তে বৈষম্যহীন সুযোগ নিশ্চিত করার সাংবিধানিক চেতনা প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনের পরীক্ষায় মোট ১৯ হাজার ৫৯২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অবশ্য এই অনুপস্থিতির সব কারণই যে বন্যা বা দুর্যোগ, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। অসুস্থতা, ব্যক্তিগত কারণ কিংবা অন্যান্য কারণও থাকতে পারে। তাই প্রকৃতপক্ষে কতজন শিক্ষার্থী দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি, সে বিষয়ে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর মূল্যায়ন জরুরি। জনআস্থা গড়ে ওঠে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তের ওপর, অনুমানের ওপর নয়।

এরই মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার একটি প্রশ্ন নিয়ে বিতর্কের পর আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি প্রয়োজনে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছে। এটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। কারণ এর মাধ্যমে বোঝা যায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রশাসন প্রয়োজনীয় নমনীয়তা প্রদর্শন করতে সক্ষম। একই ধরনের মানবিক ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।

বাংলাদেশে অতীতেও বন্যার কারণে অঞ্চলভিত্তিকভাবে পাবলিক পরীক্ষা স্থগিত করার নজির রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ দেশও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় পরীক্ষা পুনর্নির্ধারণ, বিকল্প মূল্যায়ন কিংবা বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এসব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ; তবে তা কখনোই শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও ন্যায্য সুযোগের বিনিময়ে হওয়া উচিত নয়।

অবশ্য একটি জাতীয় পরীক্ষা পরিচালনার প্রশাসনিক জটিলতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, কেন্দ্র পরিচালনা, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফল প্রকাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি- সবকিছুই একটি নির্দিষ্ট সময়সূচির সঙ্গে যুক্ত। ফলে প্রতিটি সিদ্ধান্তের বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মানবিক, নমনীয় ও দূরদর্শী সমাধান খুঁজে বের করাই দক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিচয়।

এই অভিজ্

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্মমন্ত্রীর উদ্যোগে শুরু হলো পান্নারপুল-কৃষ্ণপুর সড়কের উন্নয়নকাজ

পরীক্ষা নাকি শিক্ষার্থীর জীবন- রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার কোনটি?

Update Time : ১০:২৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
Print

*প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু জনজীবনকেই বিপর্যস্ত করে না; এটি রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, মানবিকতা এবং জবাবদিহিকেও কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করায়। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। সাম্প্রতিক এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আবারও সেই মৌলিক প্রশ্নটিকে সামনে এনেছে- সংকটের সময় রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত: নির্ধারিত সময়সূচি, নাকি শিক্ষার্থীর জীবন ও নিরাপত্তা?*

বাংলাদেশে পাবলিক পরীক্ষা কেবল একটি শিক্ষাগত মূল্যায়ন নয়; এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের বহু বছরের পরিশ্রম, স্বপ্ন, প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যতের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি পরীক্ষার ফলাফল উচ্চশিক্ষায় ভর্তি, পেশাগত জীবন এবং ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। ফলে এই পরীক্ষা পরিচালনা কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি একই সঙ্গে মানবিক, নৈতিক এবং সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার বিষয়।

সম্প্রতি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা প্রশ্ন তুলেছেন- যখন কোথাও বন্যা, কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বা আংশিক ভেঙে পড়েছে, তখন দেশের সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ আদৌ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে কি?

শিক্ষার্থীদের দাবির মূল বিষয় ছিল তিনটি- দুর্যোগের কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ; ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা পুনর্বিবেচনা; এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এসব কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন, তবুও এগুলোকে কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এগুলো শিক্ষা প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থাহীনতারও একটি বহিঃপ্রকাশ।

অন্যদিকে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় পরীক্ষা গ্রহণে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও সরকার দাবি করেছে। একটি জাতীয় পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক তথ্যের ওপর নির্ভর করাই স্বাভাবিক। তবে এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি উঠে আসে- প্রশাসনিক মূল্যায়ন কি সব সময় মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা পুরোপুরি প্রতিফলিত করে?

বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এমন যে একই জেলার এক অংশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকলেও অন্য অংশ সম্পূর্ণ পানিবন্দী হয়ে যেতে পারে। কোনো কোনো পরীক্ষার্থীকে নৌকায়, ভ্যানে কিংবা কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়। কোথাও সেতু ভেঙে যায়, কোথাও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে জেলা বা উপজেলার গড় পরিস্থিতি একজন পরীক্ষার্থীর প্রকৃত দুর্ভোগকে প্রতিফলিত নাও করতে পারে। নীতিনির্ধারণে এই বাস্তবতাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সমান সুযোগের নীতি। পাবলিক পরীক্ষার মৌলিক দর্শন হলো, সব পরীক্ষার্থী যেন সমান পরিবেশে মূল্যায়নের সুযোগ পায়। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী যদি স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, আর অন্যজন কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রেই পৌঁছাতে না পারে, তাহলে সেই মূল্যায়ন কতটা ন্যায্য- এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতার নিশ্চয়তা দেয় এবং ৩১ অনুচ্ছেদ নাগরিকের আইনের আশ্রয় ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করে। যদিও পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে সংবিধানে আলাদা কোনো বিধান নেই, তবুও রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতিগত সিদ্ধান্তে বৈষম্যহীন সুযোগ নিশ্চিত করার সাংবিধানিক চেতনা প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনের পরীক্ষায় মোট ১৯ হাজার ৫৯২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অবশ্য এই অনুপস্থিতির সব কারণই যে বন্যা বা দুর্যোগ, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। অসুস্থতা, ব্যক্তিগত কারণ কিংবা অন্যান্য কারণও থাকতে পারে। তাই প্রকৃতপক্ষে কতজন শিক্ষার্থী দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি, সে বিষয়ে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর মূল্যায়ন জরুরি। জনআস্থা গড়ে ওঠে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তের ওপর, অনুমানের ওপর নয়।

এরই মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার একটি প্রশ্ন নিয়ে বিতর্কের পর আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি প্রয়োজনে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছে। এটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। কারণ এর মাধ্যমে বোঝা যায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রশাসন প্রয়োজনীয় নমনীয়তা প্রদর্শন করতে সক্ষম। একই ধরনের মানবিক ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।

বাংলাদেশে অতীতেও বন্যার কারণে অঞ্চলভিত্তিকভাবে পাবলিক পরীক্ষা স্থগিত করার নজির রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ দেশও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় পরীক্ষা পুনর্নির্ধারণ, বিকল্প মূল্যায়ন কিংবা বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এসব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ; তবে তা কখনোই শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও ন্যায্য সুযোগের বিনিময়ে হওয়া উচিত নয়।

অবশ্য একটি জাতীয় পরীক্ষা পরিচালনার প্রশাসনিক জটিলতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, কেন্দ্র পরিচালনা, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফল প্রকাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি- সবকিছুই একটি নির্দিষ্ট সময়সূচির সঙ্গে যুক্ত। ফলে প্রতিটি সিদ্ধান্তের বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মানবিক, নমনীয় ও দূরদর্শী সমাধান খুঁজে বের করাই দক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিচয়।

এই অভিজ্