ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোদাগাড়ীতে মুরগির খামারের বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ১৪৫ Time View
Print

মোঃ সুজন আহাম্মেদ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৭নং দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ঈশ্বরীপুর গ্রামে একটি লেয়ার মুরগির খামারের বর্জ্য ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খামার থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ, মাছির উপদ্রব ও পরিবেশ দূষণের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খামারের ভেতরে মুরগির বিষ্ঠা জমিয়ে রাখা হচ্ছে। নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় আশপাশের বসতবাড়িতেও এর প্রভাব পড়ছে। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না তারা।

ঈশ্বরীপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, খামারের দুর্গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন। মাছির কারণে খাবার রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় ছোট শিশুরা খাবার খেতে গিয়ে বিরক্ত হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা রোহেনা বেগম বলেন, তরকারি রান্না করে রাখা যায় না। খাবার পরিবেশন করলেই মাছি এসে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের ঠিকমতো খাবার দিতে পারছি না। এ সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।

গৃহিণী লিপি খাতুন বলেন, নবজাতক শিশুকে নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। সব সময় মশারি টাঙিয়ে রাখতে হচ্ছে। ঘরে খাবার রাখলেই মাছি ঘিরে ধরে।

গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাছি ও দুর্গন্ধের কারণে আত্মীয়স্বজন বাড়িতে আসতে চান না। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, ঈশ্বরীপুর গ্রামে প্রায় ১২০টি পরিবারের ৬৪২ জন মানুষ বসবাস করেন। স্বপন নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ওই খামার থেকে গত কয়েক মাস ধরে দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রব বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শন করেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনেও খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দুর্গন্ধের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুরগির বর্জ্যের কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু লোক দেখানো অভিযান নয়, খামারের বর্জ্য অপসারণ, দুর্গন্ধ ও মাছি নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী সমাধান করতে হবে। লোকালয়ের মধ্যে পরিবেশ দূষণকারী কার্যক্রম চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ঈশ্বরীপুর গ্রাম বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

খামার মালিক স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সরাইলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য গণমিছিল ও সমাবেশ।

গোদাগাড়ীতে মুরগির খামারের বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

Update Time : ১০:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
Print

মোঃ সুজন আহাম্মেদ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৭নং দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ঈশ্বরীপুর গ্রামে একটি লেয়ার মুরগির খামারের বর্জ্য ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খামার থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ, মাছির উপদ্রব ও পরিবেশ দূষণের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খামারের ভেতরে মুরগির বিষ্ঠা জমিয়ে রাখা হচ্ছে। নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় আশপাশের বসতবাড়িতেও এর প্রভাব পড়ছে। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না তারা।

ঈশ্বরীপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, খামারের দুর্গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন। মাছির কারণে খাবার রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় ছোট শিশুরা খাবার খেতে গিয়ে বিরক্ত হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা রোহেনা বেগম বলেন, তরকারি রান্না করে রাখা যায় না। খাবার পরিবেশন করলেই মাছি এসে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের ঠিকমতো খাবার দিতে পারছি না। এ সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।

গৃহিণী লিপি খাতুন বলেন, নবজাতক শিশুকে নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। সব সময় মশারি টাঙিয়ে রাখতে হচ্ছে। ঘরে খাবার রাখলেই মাছি ঘিরে ধরে।

গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাছি ও দুর্গন্ধের কারণে আত্মীয়স্বজন বাড়িতে আসতে চান না। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, ঈশ্বরীপুর গ্রামে প্রায় ১২০টি পরিবারের ৬৪২ জন মানুষ বসবাস করেন। স্বপন নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ওই খামার থেকে গত কয়েক মাস ধরে দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রব বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শন করেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনেও খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দুর্গন্ধের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুরগির বর্জ্যের কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু লোক দেখানো অভিযান নয়, খামারের বর্জ্য অপসারণ, দুর্গন্ধ ও মাছি নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী সমাধান করতে হবে। লোকালয়ের মধ্যে পরিবেশ দূষণকারী কার্যক্রম চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ঈশ্বরীপুর গ্রাম বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

খামার মালিক স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।