ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালতলীর আলীর বন্দর এ.এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সরকারি ভবনে রান্না ও বসবাসের অভিযোগ সেশন ফির নামে অর্থ আদায় নীরব শিক্ষা কর্তৃপক্ষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ Time View
Print

তালতলী প্রতিনিধি: এইচ এম রবিউল

বরগুনার তালতলী উপজেলার আলীর বন্দর এ.এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি বিদ্যালয় ভবনে ব্যক্তিগতভাবে রান্না করে খাওয়া ও বসবাসের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেশন ফির নামে জনপ্রতি ১,৩৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগও করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী

সরকারি অর্থায়নে নির্মিত বিদ্যালয় ভবন মূলত পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্মিত। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন বা অন্যান্য সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার সরকারি সম্পদের নির্ধারিত উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এদিকে, সেশন ফির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১,৩৫০ টাকা আদায়ের বিষয়টিও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ অর্থ আদায়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও অনুমোদন নিয়ে স্পষ্টতা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি সাংবাদিকদের কাছে কোনো কৈফিয়ত দেব না। যেখানে দেওয়ার দরকার সেখানে দেব। আর স্কুলে রান্নাবান্নার ব্যাপারে আপনার কী মনে হয়, আমি অফিসের অনুমতি ছাড়া রান্না করছি?”

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি তাদেরকে স্কুলে রান্নাবান্না করে খেতে বলিনি।” তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।

পরে বিষয়টি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হলেও, সংবাদ লেখা পর্যন্ত অভিযোগ তদন্তে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি বিদ্যালয়ের ভবন যদি ব্যক্তিগতভাবে রান্না করে খাওয়া ও বসবাসের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তবে তা শিক্ষার পরিবেশ, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার শৃঙ্খলার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? একইভাবে, সেশন ফির নামে আদায় করা অর্থ যদি প্রচলিত নীতিমালা ও যথাযথ অনুমোদন অনুযায়ী না হয়ে থাকে, তাহলে এর জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে?

সচেতন নাগরিকরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরায় ঘের থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার ও যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত -২

তালতলীর আলীর বন্দর এ.এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সরকারি ভবনে রান্না ও বসবাসের অভিযোগ সেশন ফির নামে অর্থ আদায় নীরব শিক্ষা কর্তৃপক্ষ

Update Time : ১১:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
Print

তালতলী প্রতিনিধি: এইচ এম রবিউল

বরগুনার তালতলী উপজেলার আলীর বন্দর এ.এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি বিদ্যালয় ভবনে ব্যক্তিগতভাবে রান্না করে খাওয়া ও বসবাসের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেশন ফির নামে জনপ্রতি ১,৩৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগও করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী

সরকারি অর্থায়নে নির্মিত বিদ্যালয় ভবন মূলত পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্মিত। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন বা অন্যান্য সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার সরকারি সম্পদের নির্ধারিত উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এদিকে, সেশন ফির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১,৩৫০ টাকা আদায়ের বিষয়টিও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ অর্থ আদায়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও অনুমোদন নিয়ে স্পষ্টতা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি সাংবাদিকদের কাছে কোনো কৈফিয়ত দেব না। যেখানে দেওয়ার দরকার সেখানে দেব। আর স্কুলে রান্নাবান্নার ব্যাপারে আপনার কী মনে হয়, আমি অফিসের অনুমতি ছাড়া রান্না করছি?”

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি তাদেরকে স্কুলে রান্নাবান্না করে খেতে বলিনি।” তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।

পরে বিষয়টি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হলেও, সংবাদ লেখা পর্যন্ত অভিযোগ তদন্তে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি বিদ্যালয়ের ভবন যদি ব্যক্তিগতভাবে রান্না করে খাওয়া ও বসবাসের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তবে তা শিক্ষার পরিবেশ, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার শৃঙ্খলার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? একইভাবে, সেশন ফির নামে আদায় করা অর্থ যদি প্রচলিত নীতিমালা ও যথাযথ অনুমোদন অনুযায়ী না হয়ে থাকে, তাহলে এর জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে?

সচেতন নাগরিকরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।