ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাওনা টাকা নিতে গিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, ইউপি সদস্যসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৮৬ Time View
Print

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার তালতলী উপজেলার ৩ নম্বর করইবাড়িয়া ইউনিয়নের হেলোঞ্চাবাড়িয়া গ্রামে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মাসুম সরদার বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে রেদওয়ান সরদার মাসুম সরদারের কাছ থেকে ১ লাখ ৬ হাজার টাকা ধার নেন। দীর্ঘদিন টাকা পরিশোধ না করায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, সর্বশেষ কয়েকদিন আগে ইউপি সদস্য রেদওয়ান সরদার ৮ জুন পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন বলে মাসুম সরদারকে তার বাড়িতে যেতে বলেন। সেই অনুযায়ী সোমবার দুপুরে টাকা নিতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

অভিযোগে হামলাকারী হিসেবে রেদওয়ান সরদার (৫০), পিতা আমজাদ সরদার; সাকিব সরদার, পিতা রতন সরদার; আলমগীর গাজী, পিতা ফুল গাজী; নুরছায়েদ আকন, নাসির তালুকদারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আহতের ছোট ভাই রেজাউল সরদার জানান, পাওনা টাকার বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং এ নিয়ে একাধিক মামলাও রয়েছে। পরবর্তীতে আপোষের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় মাসুম সরদারকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রেদওয়ান সরদার বলেন, ২০১৭ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় তার অর্থ সংকট ছিল। ওই সময় তার কর্মী-সমর্থকরা মাসুম সরদারের কাছ থেকে ধার নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম চালান। পরে তিনি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তবে মাসুম সরদার পুরো টাকা এককালীন দাবি করায় জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে তার বাবার উপস্থিতিতে পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, আজকের দিনে কোনো ধরনের হামলা বা মারামারির ঘটনা ঘটেনি এবং তাকে উদ্দেশ্য করে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তালতলী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি মাছ বাজারে বিক্রির জন্য আনা হয়েছে ১৫৫ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির সামুদ্রিক কোরাল মাছ। বিরল আকারের এ মাছটি একনজর দেখতে বাজারে ভিড় করছেন ক্রেতা ও কৌতূহলী দর্শনার্থীরা।

পাওনা টাকা নিতে গিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, ইউপি সদস্যসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

Update Time : ০১:২৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
Print

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার তালতলী উপজেলার ৩ নম্বর করইবাড়িয়া ইউনিয়নের হেলোঞ্চাবাড়িয়া গ্রামে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মাসুম সরদার বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে রেদওয়ান সরদার মাসুম সরদারের কাছ থেকে ১ লাখ ৬ হাজার টাকা ধার নেন। দীর্ঘদিন টাকা পরিশোধ না করায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, সর্বশেষ কয়েকদিন আগে ইউপি সদস্য রেদওয়ান সরদার ৮ জুন পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন বলে মাসুম সরদারকে তার বাড়িতে যেতে বলেন। সেই অনুযায়ী সোমবার দুপুরে টাকা নিতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

অভিযোগে হামলাকারী হিসেবে রেদওয়ান সরদার (৫০), পিতা আমজাদ সরদার; সাকিব সরদার, পিতা রতন সরদার; আলমগীর গাজী, পিতা ফুল গাজী; নুরছায়েদ আকন, নাসির তালুকদারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আহতের ছোট ভাই রেজাউল সরদার জানান, পাওনা টাকার বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং এ নিয়ে একাধিক মামলাও রয়েছে। পরবর্তীতে আপোষের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় মাসুম সরদারকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রেদওয়ান সরদার বলেন, ২০১৭ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় তার অর্থ সংকট ছিল। ওই সময় তার কর্মী-সমর্থকরা মাসুম সরদারের কাছ থেকে ধার নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম চালান। পরে তিনি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তবে মাসুম সরদার পুরো টাকা এককালীন দাবি করায় জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে তার বাবার উপস্থিতিতে পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, আজকের দিনে কোনো ধরনের হামলা বা মারামারির ঘটনা ঘটেনি এবং তাকে উদ্দেশ্য করে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তালতলী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।