ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনগরে উঠানের ৮ ফুট নিচে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ৪৯ Time View
Print

রাজনগর উপজেলা প্রতিনিধি

নিখোঁজের ১৮ দিন পর স্বামীর স্বীকারোক্তিতে মিলল লাশ, গ্রেপ্তার ৪

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় নিখোঁজের ১৮ দিন পর এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় নিজ বসতবাড়ির উঠানের প্রায় ৮ ফুট গভীর মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় জাহেদা বেগম (৩৮)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৬ জুলাই) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে খননকাজ পরিচালনা করে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৮ জুন থেকে জাহেদা বেগম নিখোঁজ ছিলেন। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার খোঁজ জানতে চাইলে স্বামী আলমগীর আলী দাবি করেন, তার স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন। তবে দীর্ঘদিনেও কোনো খোঁজ না পাওয়ায় একই ইউনিয়নের সোনাটিকী গ্রামের বাসিন্দা নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান গত ৩ জুলাই রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির তদন্তে পুলিশ আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠানের সামনে প্রায় ৮ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।

স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল সিকদারের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে খননকাজ চালানো হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলমগীর আলী (৪০), জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাহেদা ও আলমগীর দম্পতির ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হওয়ার পর তদন্তের অংশ হিসেবে আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিভৎস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকবিরোধী অভিযানে যশোরে ৬০০ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ৭০ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ গ্রেপ্তার ২

রাজনগরে উঠানের ৮ ফুট নিচে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

Update Time : ১১:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
Print

রাজনগর উপজেলা প্রতিনিধি

নিখোঁজের ১৮ দিন পর স্বামীর স্বীকারোক্তিতে মিলল লাশ, গ্রেপ্তার ৪

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় নিখোঁজের ১৮ দিন পর এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় নিজ বসতবাড়ির উঠানের প্রায় ৮ ফুট গভীর মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় জাহেদা বেগম (৩৮)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৬ জুলাই) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে খননকাজ পরিচালনা করে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৮ জুন থেকে জাহেদা বেগম নিখোঁজ ছিলেন। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার খোঁজ জানতে চাইলে স্বামী আলমগীর আলী দাবি করেন, তার স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন। তবে দীর্ঘদিনেও কোনো খোঁজ না পাওয়ায় একই ইউনিয়নের সোনাটিকী গ্রামের বাসিন্দা নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান গত ৩ জুলাই রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির তদন্তে পুলিশ আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠানের সামনে প্রায় ৮ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।

স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল সিকদারের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে খননকাজ চালানো হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলমগীর আলী (৪০), জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাহেদা ও আলমগীর দম্পতির ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হওয়ার পর তদন্তের অংশ হিসেবে আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিভৎস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।