ঢাকা ০৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক শারমিন আরাকে ঘিরে অপপ্রচার ও রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়ার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ১৩৪ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঝিনাইদহের সৎ, সাহসী, বিনয়ী ও ন্যায়নিষ্ঠ নারী সাংবাদিক শারমিন আরাকে ঘিরে সম্প্রতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, কুৎসা রটনা এবং তাঁকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)।

গত ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খান সেলিম রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল হাসান সরকার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিক শারমিন আরা দীর্ঘদিন ধরে দল-মত-নির্বিশেষে সত্য, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছেন। নির্যাতিত, নিপীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা তিনি সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তাঁর এই পেশাগত সততা ও নিরপেক্ষ অবস্থানই একটি মহলের বিরাগভাজন হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন প্রকৃত সাংবাদিক কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী কিংবা স্বার্থান্বেষী মহলের মুখপাত্র নন; বরং তিনি সমাজ ও গণমানুষের কণ্ঠস্বর। সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনই একজন সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব এবং পেশাগত অঙ্গীকার।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ জুন যশোর সদরের কিসমত হৈবতপুর ভোটকেন্দ্রে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক শারমিন আরাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল। সংগঠনটির মতে, অনিয়মের প্রতিবাদ করা কোনো অপরাধ হতে পারে না; বরং এটি একজন দায়িত্বশীল সংবাদকর্মীর পেশাগত দায়িত্বেরই অংশ।

এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছেন। একইভাবে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহেও তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের সংবাদ তিনি নিরপেক্ষভাবে প্রকাশ করেছেন। শুধু রাজনৈতিক সংবাদ নয়, গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, অধিকারবঞ্চনা, বৈষম্য ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যাও তিনি ধারাবাহিকভাবে তাঁর লেখনীর মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিক শারমিন আরার বিরুদ্ধে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে তাঁকে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা করছেন, তারা কখনোই সফল হবেন না। কারণ, সত্যনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়; বরং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব মনে করে, একজন সাংবাদিককে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে তাঁর পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা মূলত স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের শামিল। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—সত্যের কণ্ঠ কখনো স্তব্ধ করা যায় না।

সংগঠনটি অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, মিথ্যা, বিভ্রান্তি ও ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্র সাময়িকভাবে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারলেও সত্য শেষ পর্যন্ত তার নিজস্ব আলোয় উদ্ভাসিত হয়। তাই তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকাশ নিশ্চিত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়—

“সত্যের পথ কখনো সহজ হয় না, কিন্তু সত্যকে কখনো পরাজিত করা যায় না। একজন প্রকৃত সাংবাদিক কোনো দলের নন; তিনি মানুষের, তিনি সত্যের।”

এছাড়া সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়—

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশে থাকুন।
সাহসী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার হোন।

বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের মতে, একজন সাংবাদিককে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা মানে সত্যকে আঘাত করা, স্বাধীন গণমাধ্যমকে দুর্বল করা এবং জনগণের জানার অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।

সত্যের জয় হবেই।
অপপ্রচারকারীরা কখনো সফল হবে না।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে পূর্ব শত্রুতার জেরে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা,

সাংবাদিক শারমিন আরাকে ঘিরে অপপ্রচার ও রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়ার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

Update Time : ১১:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঝিনাইদহের সৎ, সাহসী, বিনয়ী ও ন্যায়নিষ্ঠ নারী সাংবাদিক শারমিন আরাকে ঘিরে সম্প্রতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, কুৎসা রটনা এবং তাঁকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)।

গত ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খান সেলিম রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল হাসান সরকার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিক শারমিন আরা দীর্ঘদিন ধরে দল-মত-নির্বিশেষে সত্য, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছেন। নির্যাতিত, নিপীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা তিনি সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তাঁর এই পেশাগত সততা ও নিরপেক্ষ অবস্থানই একটি মহলের বিরাগভাজন হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন প্রকৃত সাংবাদিক কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী কিংবা স্বার্থান্বেষী মহলের মুখপাত্র নন; বরং তিনি সমাজ ও গণমানুষের কণ্ঠস্বর। সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনই একজন সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব এবং পেশাগত অঙ্গীকার।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ জুন যশোর সদরের কিসমত হৈবতপুর ভোটকেন্দ্রে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক শারমিন আরাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল। সংগঠনটির মতে, অনিয়মের প্রতিবাদ করা কোনো অপরাধ হতে পারে না; বরং এটি একজন দায়িত্বশীল সংবাদকর্মীর পেশাগত দায়িত্বেরই অংশ।

এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছেন। একইভাবে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহেও তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের সংবাদ তিনি নিরপেক্ষভাবে প্রকাশ করেছেন। শুধু রাজনৈতিক সংবাদ নয়, গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, অধিকারবঞ্চনা, বৈষম্য ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যাও তিনি ধারাবাহিকভাবে তাঁর লেখনীর মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিক শারমিন আরার বিরুদ্ধে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে তাঁকে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা করছেন, তারা কখনোই সফল হবেন না। কারণ, সত্যনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়; বরং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব মনে করে, একজন সাংবাদিককে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে তাঁর পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা মূলত স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের শামিল। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—সত্যের কণ্ঠ কখনো স্তব্ধ করা যায় না।

সংগঠনটি অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, মিথ্যা, বিভ্রান্তি ও ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্র সাময়িকভাবে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারলেও সত্য শেষ পর্যন্ত তার নিজস্ব আলোয় উদ্ভাসিত হয়। তাই তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকাশ নিশ্চিত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়—

“সত্যের পথ কখনো সহজ হয় না, কিন্তু সত্যকে কখনো পরাজিত করা যায় না। একজন প্রকৃত সাংবাদিক কোনো দলের নন; তিনি মানুষের, তিনি সত্যের।”

এছাড়া সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়—

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশে থাকুন।
সাহসী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার হোন।

বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের মতে, একজন সাংবাদিককে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা মানে সত্যকে আঘাত করা, স্বাধীন গণমাধ্যমকে দুর্বল করা এবং জনগণের জানার অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।

সত্যের জয় হবেই।
অপপ্রচারকারীরা কখনো সফল হবে না।