
এন এস. ফারুক, স্টাফ রিপোর্টার রংপুরঃ
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ঘটে গেল এক হৃদয় বিদারক ও মর্মস্পর্শী ঘটনা। হাসি-আনন্দে বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়ে আর ঘরে ফেরা হলো না দুই কিশোরের। যমুনেশ্বরী নদীর কালো জলে নিভে গেল দুটি তাজা প্রাণ। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে উপজেলার ৪নং হারিয়ার কুঠি ইউনিয়নের কলাপাড়া ঘাট এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ডাঙ্গিরহাট কিসামত মেনানগর তেলিপাড়া এলাকার ওয়াহিদুল ইসলাম (১৫), পিতা- আব্দুর রহিম এবং মোহাম্মদ মাসুদ রানা, পিতা- নুর ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পাঁচ বন্ধু মিলে যমুনেশ্বরী নদীর কলাপাড়া ঘাটে গোসল করতে আসে। শুরুতে সবাই হাসি-আনন্দে পানিতে নামলেও হঠাৎ করেই গভীর পানির স্রোতে তলিয়ে যায় তারা। মুহূর্তেই আনন্দের পরিবেশ রূপ নেয় আতঙ্ক আর কান্নায়।
প্রথমদিকে পাঁচজনই নিখোঁজ হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দ্রুত নদীতে নেমে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি দুজনের কোনো সন্ধান মিলছিল না। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ওয়াহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করা হলে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
অপরদিকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মাসুদ রানাকে দ্রুত তারাগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের সামনে স্বজনদের আহাজারিতে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ। মায়ের কান্না আর স্বজনদের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
তারাগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের প্রতিনিধিদল জানান, “আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে আমরা আরও দুজনকে উদ্ধার করি। তাদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং অপরজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায়।”
এদিকে খবর পেয়ে রংপুর থেকে একটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে তারা তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় ডুবুরি ইউনিট রংপুরে ফিরে যায়।
এ ঘটনায় ডাঙ্গিরহাট কিসামত মেনানগর ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে দুই কিশোর সকালে বন্ধুদের সঙ্গে হাসিমুখে বাড়ি থেকে বের হলো তাদের এখন পাওয়া গেল নিথর দেহ।
Reporter Name 


















