ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঐতিহ্যের নৌকা বাইচ ২০২৬

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪১ Time View
Print

প্রতিবেদন: মোহাম্মদ রাহিম বিশেষ প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। নদীর বুকে নৌকার ছুটে চলা, বৈঠার ছন্দে মুখর দুই তীর। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে উৎসবমুখর পরিবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ‘নৌকা বাইচ ২০২৬’। জেলা প্রশাসন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এ নৌকা বাইচকে ঘিরে নদীর দুই তীরে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জেলার শিমরাইলকান্দি গাঁওগ্রাম পয়েন্ট থেকে মেড্ডা শিশু পরিবার পয়েন্ট পর্যন্ত নদীপথে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা বাইচ। সকাল থেকেই প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করতে থাকেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতিও। বর্ণিল সাজে সজ্জিত নৌকাগুলো নদীর বুক চিরে দ্রুতগতিতে ছুটে চলার দৃশ্য মুহূর্তেই দর্শকদের মাঝে তৈরি করে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। মাঝিদের সমন্বিত বৈঠার ছন্দ, নৌকার গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওঠা ঢেউ আর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়। প্রতিযোগিতায় কে আগে গন্তব্যে পৌঁছাবে—এ নিয়ে ছিল তীব্র উত্তেজনা। নৌকাগুলো যতই সামনে এগিয়ে যায়, ততই বাড়তে থাকে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও করতালি। কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করেন প্রিয় মুহূর্ত, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন গ্রামবাংলার এই চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে নদীর দুই তীরে বসে উৎসবের আবহ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ। শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি প্রবীণদের মধ্যেও দেখা যায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার আনন্দ। আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের সংস্কৃতি সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মকে এ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করা এবং মানুষের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। স্থানীয়রা জানান, আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্ম যেমন দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে, তেমনি মানুষের মধ্যেও তৈরি হবে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য। সবশেষে নদীর বুকে সারি সারি নৌকার ছুটে চলা, মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর হাজারো দর্শনার্থীর উচ্ছ্বাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরে আসে গ্রামবাংলার চিরচেনা সেই উৎসবের আবহ। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দের অপূর্ব মিলনে ‘নৌকা বাইচ ২০২৬’ হয়ে ওঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর জন্য এক প্রাণবন্ত ও স্মরণীয় আয়োজন

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপনগর থানায় ওসি মোহাম্মদ নোমান হোসেনের মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা মাদক-সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে কঠোরতা, সাধারণ মানুষের পাশে থেকে আস্থা অর্জনের চেষ্টা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঐতিহ্যের নৌকা বাইচ ২০২৬

Update Time : ০৪:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

প্রতিবেদন: মোহাম্মদ রাহিম বিশেষ প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। নদীর বুকে নৌকার ছুটে চলা, বৈঠার ছন্দে মুখর দুই তীর। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে উৎসবমুখর পরিবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ‘নৌকা বাইচ ২০২৬’। জেলা প্রশাসন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এ নৌকা বাইচকে ঘিরে নদীর দুই তীরে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জেলার শিমরাইলকান্দি গাঁওগ্রাম পয়েন্ট থেকে মেড্ডা শিশু পরিবার পয়েন্ট পর্যন্ত নদীপথে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা বাইচ। সকাল থেকেই প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করতে থাকেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতিও। বর্ণিল সাজে সজ্জিত নৌকাগুলো নদীর বুক চিরে দ্রুতগতিতে ছুটে চলার দৃশ্য মুহূর্তেই দর্শকদের মাঝে তৈরি করে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। মাঝিদের সমন্বিত বৈঠার ছন্দ, নৌকার গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওঠা ঢেউ আর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়। প্রতিযোগিতায় কে আগে গন্তব্যে পৌঁছাবে—এ নিয়ে ছিল তীব্র উত্তেজনা। নৌকাগুলো যতই সামনে এগিয়ে যায়, ততই বাড়তে থাকে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও করতালি। কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করেন প্রিয় মুহূর্ত, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন গ্রামবাংলার এই চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে নদীর দুই তীরে বসে উৎসবের আবহ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ। শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি প্রবীণদের মধ্যেও দেখা যায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার আনন্দ। আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের সংস্কৃতি সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মকে এ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করা এবং মানুষের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। স্থানীয়রা জানান, আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্ম যেমন দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে, তেমনি মানুষের মধ্যেও তৈরি হবে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য। সবশেষে নদীর বুকে সারি সারি নৌকার ছুটে চলা, মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর হাজারো দর্শনার্থীর উচ্ছ্বাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরে আসে গ্রামবাংলার চিরচেনা সেই উৎসবের আবহ। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দের অপূর্ব মিলনে ‘নৌকা বাইচ ২০২৬’ হয়ে ওঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর জন্য এক প্রাণবন্ত ও স্মরণীয় আয়োজন