ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৩৯ Time View
Print

এস এম জসিম বিশেষ প্রতিনিধ

যৌথ অভিযানে ধরা পড়ল তিন সহযোগীও; চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর, একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত

চট্টগ্রামসহ সারাদেশে আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে যশোর কোতোয়ালী থানা পুলিশ, যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা তিন সহযোগী আল ইসলাম অলিফ তমাল, শাফায়াত ও শামীমকেও আটক করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রিকুইজিশন এবং দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর যশোর জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, মহাসড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয় এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি জোরদার করা হয়।

গভীর রাতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় একটি চেকপোস্টে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামিয়ে তাদের পরিচয় যাচাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন হিসেবে নিশ্চিত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা তিন সহযোগীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অনুরোধ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরদিকে আটক তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমনকে ধরতে বেশ কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছিল। তার সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয় যাতে তিনি পালিয়ে যেতে না পারেন।

ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মো. মুসার ছেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিশেষ করে চট্টগ্রামে সংঘটিত একাধিক আলোচিত ডাবল মার্ডার মামলায় তার নাম উঠে আসে। এছাড়া ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি, চাঁদা না দিলে হামলা চালানো, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএন-এর কাছে প্রায় ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং দাবি পূরণ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগে ডেভিড ইমনের নাম দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা আরও বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস, অস্ত্রের যোগানদাতা এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত আলোচিত অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটনে নতুন তথ্য মিলতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও যশোর জেলা পুলিশের সমন্বিত অভিযানের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা একজন আলোচিত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারায় অপরাধ দমনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন আয়েশা, চোখের জলেই লিখলেন উত্তরপত্র

যশোরে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

Update Time : ১১:৫৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Print

এস এম জসিম বিশেষ প্রতিনিধ

যৌথ অভিযানে ধরা পড়ল তিন সহযোগীও; চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর, একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত

চট্টগ্রামসহ সারাদেশে আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে যশোর কোতোয়ালী থানা পুলিশ, যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা তিন সহযোগী আল ইসলাম অলিফ তমাল, শাফায়াত ও শামীমকেও আটক করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রিকুইজিশন এবং দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর যশোর জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, মহাসড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয় এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি জোরদার করা হয়।

গভীর রাতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় একটি চেকপোস্টে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামিয়ে তাদের পরিচয় যাচাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন হিসেবে নিশ্চিত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা তিন সহযোগীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অনুরোধ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরদিকে আটক তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমনকে ধরতে বেশ কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছিল। তার সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয় যাতে তিনি পালিয়ে যেতে না পারেন।

ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মো. মুসার ছেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিশেষ করে চট্টগ্রামে সংঘটিত একাধিক আলোচিত ডাবল মার্ডার মামলায় তার নাম উঠে আসে। এছাড়া ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি, চাঁদা না দিলে হামলা চালানো, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএন-এর কাছে প্রায় ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং দাবি পূরণ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগে ডেভিড ইমনের নাম দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা আরও বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস, অস্ত্রের যোগানদাতা এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত আলোচিত অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটনে নতুন তথ্য মিলতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও যশোর জেলা পুলিশের সমন্বিত অভিযানের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা একজন আলোচিত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারায় অপরাধ দমনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।