
জাহাঙ্গীর আলম বাবু,স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর উত্তর কাফরুল এলাকার এজার সিয়া গলি, বাড়ি নম্বর–৫১২-এ একটি বহুতল ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে অবৈধ নির্মাণ, জমি দখল, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে বিভিন্ন সংস্থার নোটিশ ও স্থানীয়দের আপত্তি সত্ত্বেও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করে প্রায় পৌনে তিন কাঠা জমির ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। তাদের দাবি, ভবনটির ভিত্তি (ফাউন্ডেশন) ১০ তলা ভবনের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও দাবি, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্লট-সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা নেওয়া হয়েছিল। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজউকের জোন-৩ (মহাখালী) কার্যালয় থেকে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী নির্মাণকাজ শুরুর অন্তত ১৫ দিন আগে নির্ধারিত ফরমে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়নি এবং নির্মাণ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সাইনবোর্ডও প্রদর্শন করা হয়নি।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন না করে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। অবৈধ নির্মাণের বিষয়ে মালিকপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ভবনের ওপর থেকে ইট পড়ে পাশের একটি বাড়ির এক নারী বাসিন্দা আহত হন। পাশাপাশি ভবনের চারপাশে অন্যের জমির অংশ দখল করে রাখার অভিযোগও করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুরব্বিরা সমাধানের উদ্যোগ নিলেও কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। বরং প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রশাসনিক বা সামাজিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রাজ্জাকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ দ্রুত বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
Reporter Name 


















