ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় প্রতারকের ফাঁদে ভ্যান হারানো সেই কিশোর পেলেন নতুন ভ্যান

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ Time View
Print

মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:

অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে স্কুলের বয়সেই ভ্যানের হ্যান্ডেল ধরেছিল ১৪ বছরের কিশোর রাজ। পেটের দায়ে ভ্যান চালাতে এসেছিলেন কুষ্টিয়া শহরে। কিন্তু ভ্যানের যাত্রী পান ক্রয়ের জন্য শিশুটিকে দোকানে পাঠিয়েই ভ্যানটি নিয়ে লাপাত্তা দেন। প্রতারক যাত্রীর কৌশলে মুহূর্তেই তার জীবিকার একমাত্র সম্বল ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি হারিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন। এতে চরম সংকটে পড়া রাজের অসহায়ত্বের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তার অবস্থা দেখে পাশে দাঁড়ান খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাত নামে এক যুবক। তিনি একটি নতুন ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

জানা গেছে, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ধুবাইল ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজ দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত বাবার চিকিৎসা ও চার সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণের লক্ষে পড়াশোনা ছেড়ে ভ্যান চালানো শুরু করে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ভেড়ামারা থেকে আসা এক ব্যক্তি মালামাল পরিবহনের কথা বলে রাজের ভ্যানটি ভাড়া নেন। দিনভর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির পর বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে পৌঁছে রাজকে একটি দোকান থেকে পান কিনে আনার অনুরোধ করেন ওই যাত্রী। সরল বিশ্বাসে রাজ দোকানে গেলে সেই সুযোগে চালকবিহীন ভ্যানটি নিয়ে চম্পট দেয় ওই প্রতারক। পরবর্তীতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানের কোনো সন্ধান মেলেনি। উপার্জনের একমাত্র মাধ্যমটি হারিয়ে রাজ ও তার পরিবার যখন দিশেহারা হয়ে যান।

বিষয়টি নজরে আসে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাতের।
তিনি দ্রুত রাজের জন্য একটি নতুন ভ্যানের ব্যবস্থা করে দেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় একটি নতুন ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনে রাজের বাড়িতে পৌঁছে দেন।

এই মানবিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে দূরপ্রবাস থেকে খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাত বলেন, “এটি কোনো দান নয়; বরং একজন সংগ্রামী কিশোরকে আবার স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার একটি ক্ষুদ্র চেষ্টা মাত্র। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষরা যদি এভাবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন, তবে অনেক অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশখালীতে বন্যার্তদের পাশে ছাত্রদল নেতা আফজাল রহমান, ৩০০ পরিবার পেল ত্রাণ

কুষ্টিয়ায় প্রতারকের ফাঁদে ভ্যান হারানো সেই কিশোর পেলেন নতুন ভ্যান

Update Time : ১১:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
Print

মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:

অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে স্কুলের বয়সেই ভ্যানের হ্যান্ডেল ধরেছিল ১৪ বছরের কিশোর রাজ। পেটের দায়ে ভ্যান চালাতে এসেছিলেন কুষ্টিয়া শহরে। কিন্তু ভ্যানের যাত্রী পান ক্রয়ের জন্য শিশুটিকে দোকানে পাঠিয়েই ভ্যানটি নিয়ে লাপাত্তা দেন। প্রতারক যাত্রীর কৌশলে মুহূর্তেই তার জীবিকার একমাত্র সম্বল ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি হারিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন। এতে চরম সংকটে পড়া রাজের অসহায়ত্বের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তার অবস্থা দেখে পাশে দাঁড়ান খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাত নামে এক যুবক। তিনি একটি নতুন ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

জানা গেছে, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ধুবাইল ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজ দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত বাবার চিকিৎসা ও চার সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণের লক্ষে পড়াশোনা ছেড়ে ভ্যান চালানো শুরু করে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ভেড়ামারা থেকে আসা এক ব্যক্তি মালামাল পরিবহনের কথা বলে রাজের ভ্যানটি ভাড়া নেন। দিনভর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির পর বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে পৌঁছে রাজকে একটি দোকান থেকে পান কিনে আনার অনুরোধ করেন ওই যাত্রী। সরল বিশ্বাসে রাজ দোকানে গেলে সেই সুযোগে চালকবিহীন ভ্যানটি নিয়ে চম্পট দেয় ওই প্রতারক। পরবর্তীতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানের কোনো সন্ধান মেলেনি। উপার্জনের একমাত্র মাধ্যমটি হারিয়ে রাজ ও তার পরিবার যখন দিশেহারা হয়ে যান।

বিষয়টি নজরে আসে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাতের।
তিনি দ্রুত রাজের জন্য একটি নতুন ভ্যানের ব্যবস্থা করে দেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় একটি নতুন ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনে রাজের বাড়িতে পৌঁছে দেন।

এই মানবিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে দূরপ্রবাস থেকে খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাত বলেন, “এটি কোনো দান নয়; বরং একজন সংগ্রামী কিশোরকে আবার স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার একটি ক্ষুদ্র চেষ্টা মাত্র। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষরা যদি এভাবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন, তবে অনেক অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে।