
খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় মার্জিয়া বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের চর সুহুরী গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মার্জিয়া একই ইউনিয়নের চর হরিদেবপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন হাওলাদারের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে চর সুহুরী গ্রামের রাসেল হাওলাদারের সঙ্গে মার্জিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে মার্জিয়ার ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মার্জিয়ার স্বামী রাসেল ও তার বন্ধু লিমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। স্বামীকে মাদক সেবন এবং বন্ধু লিমনের সঙ্গ ত্যাগ করতে বলায় মার্জিয়ার ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। বিষয়টি শ্বশুর-শাশুড়িকে জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি, উল্টো মার্জিয়াকেই নানাভাবে অপমান করা হতো।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রাসেলের বন্ধু লিমন তাদের বাড়িতে আসেন। মার্জিয়া এ নিয়ে আপত্তি জানালে স্বামী রাসেল তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন। পরে রাসেল ও লিমন একসঙ্গে বাইরে যাওয়ার সময় মার্জিয়া বাধা দিলে তাকে আবারও চরমভাবে অপমান করা হয়। এই বিষয়ে শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে বিচার চাইতে গেলে তারাও মার্জিয়াকে তিরস্কার করেন। স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর বন্ধুর এমন ধারাবাহিক অপমান এবং মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে একপর্যায়ে মার্জিয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। শুক্রবার (৫ জুন) নিহতের বাবা আলতাফ হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী রাসেল হাওলাদার (২৫), তার বন্ধু লিমন (২৫), শ্বশুর বাচ্চু হাওলাদার (৪৭) ও শাশুড়ি মাসুমা বেগম (৪৪) কে আসামি করা হয়েছে।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Reporter Name 

















