ঢাকা ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলাচিপা ও রাংগাবালীতে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বড় পদক্ষেপ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ১৬ Time View
Print

খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:

পটুয়াখালীর জলাশয়গুলোতে দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পটুয়াখালীর গলাচিপা ও পার্শ্ববর্তী রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাধারে দিনব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বোয়ালিয়া খালসহ বিভিন্ন জলাশয় থেকে মাছের পোনা নিধনে ব্যবহৃত মোট ৪৪টি ক্ষতিকর চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।

​গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী। অভিযানে গলাচিপা থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের ৩০টি জাল জব্দ করা হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হকের উপস্থিতিতে জালগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়।

অন্যদিকে, একই দিনে রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য অফিস ও নৌ-পুলিশের অভিযানে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের আরও ১৪টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়।
​অভিযান শেষে জালের ভয়াবহ ক্ষতির কথা তুলে ধরে গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও রাঙ্গাবালীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী জানান, চায়না দুয়ারি জাল দেশের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। এই জালের ক্ষুদ্র ফাঁসে ছোট-বড় মাছের পোনাসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী নির্বিচারে ধরা পড়ে, যা মৎস্য খাতের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করতেই এসব অবৈধ জাল ধ্বংস করা হয়েছে এবং নদী-নালা ও জলাশয়ে মাছের প্রজনন সুরক্ষায় প্রশাসনের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

​একই সাথে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, দেশের রুপালি সম্পদ রক্ষা করতে হলে সর্বস্তরের জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। অবৈধ জাল তৈরি, বিক্রি কিংবা ব্যবহারের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। দেশি মাছের বংশবৃদ্ধি ও জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তিনি সাধারণ জনগণকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কসবায় ৩৬০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

গলাচিপা ও রাংগাবালীতে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বড় পদক্ষেপ

Update Time : ১১:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
Print

খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:

পটুয়াখালীর জলাশয়গুলোতে দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পটুয়াখালীর গলাচিপা ও পার্শ্ববর্তী রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাধারে দিনব্যাপী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বোয়ালিয়া খালসহ বিভিন্ন জলাশয় থেকে মাছের পোনা নিধনে ব্যবহৃত মোট ৪৪টি ক্ষতিকর চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।

​গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী। অভিযানে গলাচিপা থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের ৩০টি জাল জব্দ করা হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হকের উপস্থিতিতে জালগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়।

অন্যদিকে, একই দিনে রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য অফিস ও নৌ-পুলিশের অভিযানে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের আরও ১৪টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়।
​অভিযান শেষে জালের ভয়াবহ ক্ষতির কথা তুলে ধরে গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও রাঙ্গাবালীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী জানান, চায়না দুয়ারি জাল দেশের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। এই জালের ক্ষুদ্র ফাঁসে ছোট-বড় মাছের পোনাসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী নির্বিচারে ধরা পড়ে, যা মৎস্য খাতের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করতেই এসব অবৈধ জাল ধ্বংস করা হয়েছে এবং নদী-নালা ও জলাশয়ে মাছের প্রজনন সুরক্ষায় প্রশাসনের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

​একই সাথে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, দেশের রুপালি সম্পদ রক্ষা করতে হলে সর্বস্তরের জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। অবৈধ জাল তৈরি, বিক্রি কিংবা ব্যবহারের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। দেশি মাছের বংশবৃদ্ধি ও জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তিনি সাধারণ জনগণকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।