ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়েটের প্রকৌশলী মকবুল হোসেনের ইশারায় সাংবাদিক পরিবার ভিটেমাটি ছাড়া

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ২৭ Time View
Print

 

মোঃ জসিম উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি :–

পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী থানার মির্জাপুর ইউনিয়নের নলপুখুরী গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমান ও তার পরিবার প্রায় এক বছর ধরে নিজ বসতভিটায় ফিরতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফজলুর রহমানের আপন ভাতিজা মোঃ মকবুল হোসেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ প্রকৌশলী পদে কর্মরত থাকায় তার প্রভাব খাটিয়ে পরিবারটির ওপর দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক নির্যাতন ও হয়রানি চালানো হচ্ছে। এমনকি আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরও পরিবারটি কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৩০ বছর আগে ফজলুর রহমানের পৈতৃক বসতভিটা ও আবাদি জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নেন প্রকৌশলী মকবুল হোসেনের বাবা মশির উদ্দিন। এছাড়া ফজলুর রহমানের ক্রয়কৃত ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমিও জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়। ওই জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাসের স্বপ্ন দেখলেও বর্তমানে তারা উচ্ছেদ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পরিবারটি দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করার পর বর্তমানে আটোয়ারী এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করছে।

ফজলুর রহমানের পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। এক ছেলে ঢাকায় এবং আরেক ছেলে পঞ্চগড়ে কর্মরত। দুই মেয়ের মধ্যে একজন দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অন্যজন একটি এনজিওতে কর্মরত রয়েছেন।

ফজলুর রহমান পেশায় একজন ক্ষুদ্র গরু ব্যবসায়ী। তার অভিযোগ, ব্যবসার প্রায় ৫ লাখ টাকা মূলধনও প্রতিপক্ষ ছিনিয়ে নিয়ে তাকে পথে বসিয়েছে।

এ ঘটনায় তিনি মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সামাদ আজাদের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। চেয়ারম্যান একাধিকবার উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক করলেও সমাধান করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি ফজলুর রহমানের পক্ষে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন।

ফজলুর রহমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিজ্ঞ আমলী আদালত-৫, আটোয়ারী, পঞ্চগড়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১৬/২০২৫ দীর্ঘ প্রায় সাত মাস ডিবি কার্যালয়ে তদন্তাধীন ছিল। পরে তদন্তে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি পুনরায় আদালতে আবেদন করেন। পরবর্তীতে ঠাকুরগাঁও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৪২৭/৫০৬/১১৪ ধারার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে জানা যায়।

এছাড়া, জমিতে অন্য কেউ যাতে বসবাস করতে না পারে, সে লক্ষ্যে ফজলুর রহমান এম.আর-১৫১/২০২৫ নম্বর মামলা দায়ের করেন। আদালত এ বিষয়ে আটোয়ারী ভূমি অফিসকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালত ১৮৯৮ সালের ১৪৪/১৪৫ ধারায় উভয় পক্ষকে জমিতে স্ব-স্ব অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই নির্দেশ অমান্য করে আসামিপক্ষ পুরো জমি দখলে নেয়। পরে ফজলুর রহমান পুনরায় বিজ্ঞ আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১০১/২০২৬ (সি.আর) বর্তমানে আটোয়ারী থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।

চলমান মামলার আসামি মোঃ মকবুল হোসেন চুয়েটে প্রকৌশলী পদে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

এ বিষয়ে মোঃ মকবুল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার চাচা ফজলুর রহমানের কোনো জমি নেই।”

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়েটের প্রকৌশলী মকবুল হোসেনের ইশারায় সাংবাদিক পরিবার ভিটেমাটি ছাড়া

চুয়েটের প্রকৌশলী মকবুল হোসেনের ইশারায় সাংবাদিক পরিবার ভিটেমাটি ছাড়া

Update Time : ০২:০৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
Print

 

মোঃ জসিম উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি :–

পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী থানার মির্জাপুর ইউনিয়নের নলপুখুরী গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমান ও তার পরিবার প্রায় এক বছর ধরে নিজ বসতভিটায় ফিরতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফজলুর রহমানের আপন ভাতিজা মোঃ মকবুল হোসেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ প্রকৌশলী পদে কর্মরত থাকায় তার প্রভাব খাটিয়ে পরিবারটির ওপর দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক নির্যাতন ও হয়রানি চালানো হচ্ছে। এমনকি আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরও পরিবারটি কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৩০ বছর আগে ফজলুর রহমানের পৈতৃক বসতভিটা ও আবাদি জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নেন প্রকৌশলী মকবুল হোসেনের বাবা মশির উদ্দিন। এছাড়া ফজলুর রহমানের ক্রয়কৃত ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমিও জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়। ওই জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাসের স্বপ্ন দেখলেও বর্তমানে তারা উচ্ছেদ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পরিবারটি দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করার পর বর্তমানে আটোয়ারী এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করছে।

ফজলুর রহমানের পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। এক ছেলে ঢাকায় এবং আরেক ছেলে পঞ্চগড়ে কর্মরত। দুই মেয়ের মধ্যে একজন দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অন্যজন একটি এনজিওতে কর্মরত রয়েছেন।

ফজলুর রহমান পেশায় একজন ক্ষুদ্র গরু ব্যবসায়ী। তার অভিযোগ, ব্যবসার প্রায় ৫ লাখ টাকা মূলধনও প্রতিপক্ষ ছিনিয়ে নিয়ে তাকে পথে বসিয়েছে।

এ ঘটনায় তিনি মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সামাদ আজাদের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। চেয়ারম্যান একাধিকবার উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক করলেও সমাধান করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি ফজলুর রহমানের পক্ষে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন।

ফজলুর রহমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিজ্ঞ আমলী আদালত-৫, আটোয়ারী, পঞ্চগড়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১৬/২০২৫ দীর্ঘ প্রায় সাত মাস ডিবি কার্যালয়ে তদন্তাধীন ছিল। পরে তদন্তে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি পুনরায় আদালতে আবেদন করেন। পরবর্তীতে ঠাকুরগাঁও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৪২৭/৫০৬/১১৪ ধারার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে জানা যায়।

এছাড়া, জমিতে অন্য কেউ যাতে বসবাস করতে না পারে, সে লক্ষ্যে ফজলুর রহমান এম.আর-১৫১/২০২৫ নম্বর মামলা দায়ের করেন। আদালত এ বিষয়ে আটোয়ারী ভূমি অফিসকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালত ১৮৯৮ সালের ১৪৪/১৪৫ ধারায় উভয় পক্ষকে জমিতে স্ব-স্ব অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই নির্দেশ অমান্য করে আসামিপক্ষ পুরো জমি দখলে নেয়। পরে ফজলুর রহমান পুনরায় বিজ্ঞ আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১০১/২০২৬ (সি.আর) বর্তমানে আটোয়ারী থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।

চলমান মামলার আসামি মোঃ মকবুল হোসেন চুয়েটে প্রকৌশলী পদে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

এ বিষয়ে মোঃ মকবুল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার চাচা ফজলুর রহমানের কোনো জমি নেই।”